Search This Blog

Wednesday, September 22, 2021

সকাল বিকালের নাস্তায় ডাল পুরি



সকাল ও বিকালের নাস্তায় ডাল পুরি সবার প্রিয় । বিকেলের নাস্তায় কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় ডাল পুরি সবার প্রিয় । সুস্বাদু ও মুখরোচক একটি খাবারের নাম ‘ডালপুরি’ ।  দোকান থেকে কিনে না এনে বাসায় বানালে সেই খাবারটি বেশি স্বাস্থ্যকর হয় তাই নিজে নিজে খুব সহজেই তৈরি করতে পারেন ডালপুরি । আজকের রেসিপি ডাল পুরি ।

উপকরণঃ

. কাপ ময়দা
. কাপ ছোলার ডাল
. আদা কাঁচা লঙ্কা পেস্ট টেবিল চামচ
. কালো জিরে / টেবিল চামচ
. গোটা ধনে টেবিল চামচ
. গোটা জিরে টেবিল চামচ
. শুকনো লঙ্কা - টি
. হিং আন্দাজ মত
. স্বাদ মত নুন চিনি
১০. তেল প্রয়োজন মত


প্রণালিঃ 


. প্রথমে স্বাদ মত নুন , চিনি অল্প সাদা তেল দিয়ে ভালো করে ঠেসে ঠেসে ময়দা মেখে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন.

. এবার পুর তৈরী করা যাক। ভাজা মশলা তৈরী করতে হবে। উনুন কড়া বসিয়ে তাতে গোটা ধনে , গোটা জিরে শুকনো লঙ্কা দিয়ে মচমচে করে ভেজে নিন। মশলা গুলো ঠান্ডা হলে মিক্সিতে বেটে নিন। তৈরী ভাজা মশলা 

. এবার ছোলার ডাল সেদ্ধ করে নিন , যতখানি ডাল দেবেন ঠিক ততখানি গায়ে গায়ে জল দিয়ে সেদ্ধ করুন। এমন পর্যায়ে সেদ্ধ করবেন যাতে ডালটা শক্ত এবং দানা দানা থাকবে কারণ ডাল পুরির পুরটা একেবারে বাটা মত হয় না একটু দানা দানা থাকে। এরপর মিক্সিতে সেদ্ধ করা ডাল বেটে নিন। একদম মিহি করে পেস্ট করবেন না একটু দানা দানা থাকবে।

. ডাল বাটা হয়ে গেলে উনুন কড়া বসিয়ে তেল দিন , তেল গরম হলে কালো জিরে আন্দাজমত হিং দিয়ে দিন ফোরোনের গন্ধ বেরোলে তাতে আধাকাঁচা লঙ্কা বাটা চিনি দিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন যাতে কাঁচা আদার গন্ধ চলে যায়।এবার ডাল বাটা দিয়ে - মিনিট নেড়ে নিয়ে স্বাদমত নুন চামচ ভাজা মশলা দিয়ে নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিন। পুর তৈরী।

. এবার ময়দার লেচি কেটে তাতে পুর ভরে নিন। হালকা হাতে বেলে নিন যাতে ফেটে না যায় এরপর উনুন কড়া বসিয়ে তেল দিয়া দিন , তেল গরম হলে বেলে রাখা ডালপুরি ছেড়ে দিন। এবার গরম গরম ডালপুরি আলুর দম এর সাথে পরিবেশন করুন।

Thursday, September 2, 2021

চুলায় বানিয়ে ফেলুন চকলেট কেক



জন্মদিন, ক্লাস পার্টি, ,বিবাহবার্ষিকী বড়দিন ছাড়াও এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কেকের আয়োজন থাকে। ছোট-বড় সবারই প্রিয় কেক। বিভিন্ন রকমের কেকের মধ্যে ছোট বড় সবারই প্রিয় হচ্ছে চকলেট কেক।  চকলেট কেক ঘরেই তৈরি করা যায় খুব সহজেই ।

চুলায় তৈরি করতে পারেন মজাদার চকলেট কেক। আসুন জেনে নিই কীভাবে তৈরি করবেন চকলেট কেকঃ

উপকরণঃ

ময়দা১ কাপ
 চিনি১ কাপ
তেল/২কাপ
পাউডার দুধ২ টেবিল চামচ
বেকিং পাউডার১চা চামচ
ডিম৩টা
ভেনিলা এসেন্সচা চামচ
কোকো পাউডার৩ টেবিল চামচ

প্রণালিঃ

প্রথম কাজঃ চালনিতে ময়দা,পাউডার দুধ, বেকিং পাউডার, কোকো পাউডার, লবন চেলে নিতে হবে।

দ্বিতীয় কাজঃ  একটা বোলে ডিম ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে এগ বিটার না থাকলে কাটা চামচ দিয়ে জোরে ফেটতে হবে। ডিমটা ভালো করে ফেটানো হলে অল্প অল্প করে চিনি দিয়ে ফেটাতে  হবে।

তৃতীয় কাজঃ  চিনি ভালো ভাবে গলে গেলে ভেনিলা এসেন্স তেল দিতে হবে

 চতুর্থ কাজঃ তারপর চেলে রাখা ময়দা দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে। বেটার  তৈরি। এবার হাঁড়িতে সামান্য তেল লাগিয়ে বেটার ঢেলে দিন।

নোটঃ পাউন্ডের চুলায় কেক বানানোর হাঁড়িতে   পাউন্ড কেক ভালোভাবে হয়।  

পঞ্চম কাজঃ  এবার চুলার আঁচ মাঝারি থেকে একটু কম আঁচে রাখতে হবে, তার উপর একটা তাওয়া দিতে হবে। এবার হাঁড়ির নিচে অংশ বসিয়ে তার উপর হাঁড়ি বসিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন। ২৫/ ৩৫ মিঃ লাগবে কেক হতে। কেক ঠান্ডা হলে একটা প্লেটে উল্টা করে ঢেলে দিয়ে কেক পরিবেশন করুন।

নোটঃ একটা কাঁঠি কেকের মাঝে ঢুকিয়ে বের করে দেখবেন যে কাঁঠির সাথে বেটার লেগে আছে কিনা? যদি লেগে না থাকে তাহলে বুঝতে হবে কেক হয়ে গেছে।

কেকের ক্রিম যেভাবে করবেনঃ

 দুইটি ডিমের সাদা অংশ খুব ভালো ভাবে হ্যান্ড উইস্ক / মিক্সার/ইলেকট্রিক বিটারে বিট করে ফোম করে নিতে হবে। ১০০ গ্রাম ঠাণ্ডা বাটার নিয়ে বিট করতে হবে পুরোপুরি গলে না যাওয়া পর্যন্ত। তারপর আপনার স্বাদ মত আইসিংসুগার বিট করতে হবে।সুগার ভালোভাবে মিশে গেলে ভ্যানিলা এসেন্স দুটি আইস কিউব আবার বিট করতে থাকুন। আইস কিউব গলে গেলে নরমাল ফ্রিজে ১০ মিনিট রাখুন। চাইলে পছন্দ মতো রঙ দিয়ে বিট করে নিতে পারেন। মনে রাখবেন ক্রিমে  ক্ষেত্রে এখানে ভালোভাবে বার বার বিট করাটাই আসল। কেকের ক্রিম তৈরির ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক বিটার সবচেয়ে ভালো। ক্রিম তৈরি হয়ে গেছে এখন আপনি আপনার পছন্দ মতো ডিজাইন করে নিন।

সবশেষে পরিবেশনের পালা। সবাইকে চমকে দিন এই মজাদার চকলেট কেক চুলায় তৈরি করে।


Sunday, August 29, 2021

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কালা ভুনা



বাঙালি খাবারের মধ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী গরুর মাংসের কালা ভুনার জনপ্রিয়তা বলে শেষ করা যাবে না। আর এখন ঘরেই তৈরি করা যায় এই সুস্বাদু কালা ভুনা। প্রয়োজন শুধু সঠিক  মসলার নাম ও পরিমাণ জানা। আসুন তাহলে আমরা জেনে নেই কালা ভুনা রান্নার পুরো প্রস্তুত প্রণালি ।

 

মাংস মাখানোর/মেরিনেট করার জন্য যা যা লাগবেঃ

 

 গরুর মাংস কেজি (মাংসে হাড় চর্বি সবই থাকতে হবে)

 – কাঁচা পেঁয়াজ:  কাপ (মেরিনেটের জন্য বড় কিউব করে কাটা ) 

কাঁচা পেঁয়াজ:  কাপ (বড় কিউব করে কাটা রান্না শেষে) 

 – পিঁয়াজ বেরেস্তা / কাপ

 – আদা বাটা টেবিল চামচ

 – রসুন

বাটা টেবিল চামচ

 – গোল মরিচ ১০/১২ টি

  কাঁচা মরিচ ৮/১০ টি

 – ছোটো এলাচ ৪/ টি

 – বড় এলাচ  টি 

 – তেজপাতা ২ টি 

 লং / টি

 – কাবাব চিনি / টি

 – দারুচিনি  / সেঃমিঃ

 – স্টার এনিস মসলা / টি

 – লবণ টেবিল চামুচ স্বাদ অনুযায়ি

 – মরিচের গুঁড়া ২/৩  টেবিল চামচ

 গোল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ

জয়ফল গুঁড়া ১ টি (না ভেজে)

জয়ত্রি  গুঁড়া ৩/৪  গ্রাম 

ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ

 – হলুদের গুঁড়া ১/২ চা চামচ

 – ধনে গুঁড়া টেবিল চামচ

 – সরিষার তেল / কাপ পরিমাণ (পেঁয়াজ বেরেস্তা ভাজার তেলটা  নিতে হবে)

 

 বাগার বা ফোঁড়নের জন্য যা যা লাগবেঃ

রাধুনি মসলার গুঁড়া ১/২চা চামচ (রাধুনি মসলা স্কয়ার এর রাঁধুনি মসলা না, এটা আলাদা

   মসলা। এটার হিন্দি নাম আজওয়াইন এবং ইংলিশ নাম ক্যারাম সিড) 

 সরিষার তেল / কাপ

 – পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ

 – রসুন কুচি টেবিল চামচ

 – আদা কুচি টেবিল চামচ

 –শুকনো মরিচ ১০/১২ টি

  গরম পানি ১ কাপ

  


প্রণালিঃ – 

কালা ভুনা তৈরিতে একসাথে বেশী  পরিমাণে মাংস নিতে হয়। কম মাংস দিয়ে কালা ভুনা করতে গেলে ভালো হয় না। আর মাংসের টুকরাগুলো একটু বড় বড় করে কাটতে হয়। 

মাংস কেটে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে হাঁড়িতে নিতে নিন। মাংস ধোয়ার পর কাঁচা মরিচ রেখে সব মসলা লবণ তেল দিয়ে ভালো করে হাত দিয়ে মাখিয়ে নিন।  এখানে বলে রাখা জরুরি যে মাংসটা যত ভালো করে মশলা দিয়ে মাখাবেন ততই এর ভিতরে মশলাগুলো ঢুকবে এবং রান্নার সময় এর স্বাদ বেড়ে যাবে। তাই / মিনিট সময় নিয়ে উল্টেপাল্টে মাংসটা মাখিয়ে নিয়ে হাতে মাখানো মশলা আধা কাপ পানি দিয়ে ধুয়ে মাংসে দিন।

ঢাকনা দিয়ে চুলায় দিয়ে দিন। বাড়তি কোন পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ফ্রেশ গরুর মাংস থেকে এমনিতেই পানি ছাড়বে। 

৫/৬ মিনিট উচ্চতাপে মাংসটা রান্না হলে, ঢাকনা নামিয়ে ভালোভাবে উল্টেপাল্টে নেড়ে দিন। পর্যায়ে দেখবেন মাংস থেকে সামান্য পানি ছাড়ছে। 

এভাবে ৫/৭ মিনিট পরপর মাংসটা উল্টেপাল্টে নেড়ে দিন। আর খেয়াল রাখুন যেন হাঁড়ির নিচের মশলা পুড়ে না যায়। 

২৫/৩০মিনিট পর যখন পানিটা শুকিয়ে তেল উপরে উঠে আসবে এবং মাংসের রঙটাও কিছুটা  বদলে যাবে, তখন  বাকি মশলা দেওয়ার পালা।  

 

পর্যায়ে -  

গোল মরিচের গুঁড়া, জয়ফল গুঁড়া, জয়ত্রি, ভাজা জিরার গুঁড়া, গরম মসলার গুঁড়া-  

এই সব মসলা দিয়ে আবার মাংসটা ভালোভাবে উল্টেপাল্টে নেড়ে দিন এবং কাঁচা মরিচগুলো দিয়ে দিন। দুই/তিন মিনিট ধরে উচ্চতাপে ভালভাবে মাংসটা নেড়ে নেড়ে কষিয়ে নিন। 

 এরপরে চুলার আঁচ  কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে মাংসটা চুলার উপরে রেখে দিন। 

 

এদিকে ফোঁড়নের প্রস্তুতি নিতে থাকুন। 

 

চুলা উচ্চতাপে রেখে গরম প্যানে সরিষার তেল গরম করে তার মধ্যে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন। অনবরত নেড়ে নেড়ে লাল লাল বেরেস্তার মত করে নিন। যখন রংটা একটু বদলে আসবে তখন দিয়ে দিতে হবে রসুন কুচি, আদা কুচি আর শুকনা মরিচ। এই সবকিছু নাড়তে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত পেঁয়াজের রং বাদামি না হয়ে আসে। 

 এই সময় সরিষার তেলের ফোঁড়নটা আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা মাংসের মধ্যে দিয়ে ভালভাবে নেড়ে দিন। এবং ঢাকনা দিয়ে ৫/৬ মিনিট অপেক্ষা করুন। এতে ফোঁড়নের সুগন্ধ সব মাংসে ভালোভাবে ঢুকে যাবে। কাপ গরম পানি দিন। খুন্তি দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। পুড়ে যাবে না কিন্তু ভাজিতে রং কালো হতে থাকবে। এই সময় চুলা ছেড়ে যাবেন না। কাছেই থাকুন ,নাড়ুন এবং  লবণ দেখুন। লবণ লাগলে ছিটিয়ে দিন

 

৫/৬  মিনিট পর ঢাকনা খুলে দিন এবং কষিয়ে নিন, যতক্ষণ পর্যন্ত না পানি শুকিয়ে তেলটা উপরে উঠে আসে এবং মাংসটার রং স্পষ্ট হয়ে উঠে আসে ততক্ষণ।  পর্যায়ে আবারো  শেষবারের মত কিছু উপাদান দেওয়ার পালা। 

কাঁচা পেঁয়াজ (বড় কিউব করে কাটা), গরম মসলার গুঁড়া, রাঁধুনি মসলার গুঁড়া।  এগুলো মাংসে দিয়ে ভালভাবে কষিয়ে নিন যতক্ষণ পর্যন্ত শেষে দেওয়া পেঁয়াজের রংটা একটু বদলে না যায়।

পানি শুকিয়ে তেল ভেসে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিয়ে মিনিট অপেক্ষা করুন। গরম গরম পরিবেশন করুন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কালা ভুনা  

 

 

 


সকাল বিকালের নাস্তায় ডাল পুরি

সকাল ও বিকালের নাস্তায় ডাল পুরি সবার প্রিয় ।  বিকেলের নাস্তায় কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় ডাল পুরি সবার প্রিয় । সুস্বাদু ও মুখরোচক একটি খাবারের...